স্মৃতিকথা ১

যখন আমরা আব্বুর মাদ্রাসায় পড়তাম, তখন পড়াশোনা থেকে মন উঠে যায় এমন ইস্যু বা আসবাব কম ছিল, পড়াশোনা বাদে আমাদের নেশা হয়ত খেলাধুলায়  পরে থাকতো ব্যাস এটুকুই। কিন্তু এখনকার সময়ে তো পড়াশোনায় মন না বসার সব রকম ইস্যু বিদ্যমান। আমাদের মনে আছে, আমরা যখন লজিংবাড়ি গিয়ে দুপুরের খাবার খেতে খেতে বিটিভির ছোট ছোট কার্টুন ভিডিও দেখতাম সেটার প্রভাব মাগরিবের পরে হেফজের সবক মুখস্থ করার সময় উপলব্ধি করতাম, হঠাত্ করেই হেসে দিতাম কিংবা সাথীর সাথে গল্প করতাম এমনকি কখনো কখনো কোরআন শরীফ বন্ধ করে টম এন্ড জেরির দুষ্টুমী মনে করে হাসতাম। ২০-২৫ মিনিটের একটা কার্টুন দেখার ফলে মাগরিবের পরে যে সবকটা ১ ঘন্টায় মুখস্থ হওয়ার কথা সেটা মুখস্থ করতে দের দুইঘন্টা লেগে যেত। এরকম কিছু কারণ ছিল পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটানোর। কিন্তু এখনকার সময়ে? হেফজখানার ছাত্রদেরও কারো কারো দুইটা ফেইসবুক আইডি  খোলা আছে। হিন্দি বুঝে হিন্দি না পড়েই! রোমান্টিক পোস্ট করে নাবালক থাকতেই। এতকিছুর মধ্যে ওরা কোরআন মুখস্থ করে মাশাআল্লাহ, কিভাবে!? কখনো কখনো ভাবি নিশ্চয় আমাদের সময়ের ছাত্রদের তুলনায় এদের ব্রেন অনেক বেশি। নয়ত এখনকার ছাত্ররা একটা ব্রেনে একাধিক সাবজেক্ট রেখে হেফজ করতে পারে যখন শুনি তখন ঐ ছাত্রকে আমি নিঃসন্দেহে মেধাবী ছেলে মনে করি। এখনকার সময়েও ৬ মাসে হাফেজ হয়ে যায় বাচ্চারা! কীভাবে পারে?! 

আমার বাবা একজন প্রবীন আলেম, মাওলানা। তিনার জীবনের বড় এক লক্ষ্য ছিল তিনি তার সব ছেলেদের হাফেজ বানাবেন, প্রথমত দুই ছেলে ২-৩ বছরে হাফেজ হয়েছেন, কিন্তু তৃতীয়জন একটু পিছিয়ে পরে, মোটামোটি অনেক সময় লেগে যায় তার হেফজ শেষ করতে। এক সময় আমার পরিবারের কয়েকজন বাবাকে পরামর্শ দেন যে, ছোট ছেলেকে হাফেজ বানাতে হবে না। সে হয়ত হাফেজ হতে পারবে না, তাকে কিতাবখানায় দিয়ে দেন।  তখন বাবা উত্তর দেন, আমি আমার ধৈর্য্য ও চেষ্টায় কোন কমতি রাখব না, হতাশও হব না, আমি বিশ্বাস করি আমার তিন ছেলেই হাফেজ হবে এবং এটা আমার স্বপ্ন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর বাবার সেই স্বপ্ন যখন পুর্ণ হয়, তখন বাবা কৃতজ্ঞতার পাশাপাশি সকল আত্নীয় ও হিতাকাঙ্খীদের মিষ্টি খাওয়ান। আমার এই ছোট ভাইটা এখন দেখতে সবার চেয়ে বড় দেখা যায়। অথচ সে পরিবারের ছোট ছেলে। আজ সে হেফজ সমাপনীর পাগড়ী পেল। এটা তার পূর্ণতার পাশাপাশি আমাদেরও একটা পূর্ণতা। আল্লাহ তায়ালা তার সামনের দিনগুলো আরো ভালো  পার করুন।